মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের মা- বিয়ানীবাজারে বিভিন্ন আয়োজনে দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বিয়ানীবাজার টাইমসঃ মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান জুলাই আন্দোলনে সিলেটে নিহত শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের মা। ছেলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিচার দেখার আকুতি জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, মাত্র তিন মাসের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীকে হারানো তুরাবের স্ত্রী তানিয়া ইসলামও এখনও অপেক্ষা করছেন ন্যায়বিচারের।
আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন তরুণ সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তিনি জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেটের ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বাদ যোহর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৈতৃক নিবাস বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে তুরাবের কবর জিয়ারত করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সাংবাদিক সংঘটনের প্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
কবর জিয়ারত শেষে তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুরাবের মা বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। মৃত্যুর আগে শুধু ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ জাবুর। মামলাটি প্রথমে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দায়ের হলেও পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বর্তমানে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জ্বল সিংহ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে এজাহারভুক্ত আরও কয়েকজন আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ জাবুর। তার দাবি, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে, সাগর-রুনী কান্ডের মতো যেনো এ বিচারকে বিলম্বিত করা না হয়।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই সাংবাদিকের হত্যাকান্ডের সুষ্টু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার-স্বজন ও সহকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।
এদিকে, তুরাবের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংঘটন পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানায় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।